ভাওয়াল রাজার বিস্ময়কর জীবনকাহিনী নিয়ে সৃজিত মুখার্জির সাড়া জাগানো মুভি 'এক যে ছিল রাজা' এ বছর সেরা বাংলা ছবি হিসেবে ভারতের ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু সেনগুপ্ত এবং বাংলাদেশের জয়া আহসান। এছাড়া, সেরা হিন্দি ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছে দুধর্ষ থ্রিলার 'অন্ধা ধুন' আর সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন আয়ুস্মান খুরানা ও ভিকি কৌশল।
বাংলাদেশের বর্তমান গাজীপুর জেলার একটি ঐতিহাসিক গল্প নিয়ে তৈরি 'এক যে ছিল রাজা'। ভাওয়াল রাজার মৃত্যু এবং সন্ন্যাসী বেশে ফিরে আসার এক লোমহর্ষক গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন সৃজিত মুখার্জী। ভাওয়াল সন্ন্যাসীর ঘটনা এবং আদালতের কেসের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে এই মুভিতে। একজন মানুষের জীবন এতটা নাটকীয় এবং রহস্যময় হতে পারে সেটা এই মুভি না দেখলে ধারণা করা যায় না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এই কেসটিতে জড়িয়ে পড়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকেরা। শেষ পর্যন্ত প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়ায় এই কেস। ভাওয়াল সন্ন্যাসী কেস জয়ের একদিন পরেই মারা যান।
ছবিতে ভাওয়াল রাজার বোনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। এই সুসংবাদ দিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, 'দুটো কারণে এটি আমার কাছে এক বিরাট আনন্দের খবর হয়ে এসেছে। ২০১৭ সালে এ পুরস্কার পেয়েছিল কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত 'বিসর্জন'। আমি সে ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্রে ছিলাম। এ বছরের পুরস্কৃত ছবি 'এক যে ছিল রাজা ছবি'তেও আমি অভিনয় করেছি। দ্বিতীয় আনন্দের বিষয় হলো, এ ছবির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ভাওয়াল অঞ্চল। গবেষক দলের অংশ হিসেবে ছবিটিতে ভাওয়ালের স্থানীয় বাংলা উচ্চারণের ভঙ্গিমা নিয়ে আসার কাজটিতে আমি যুক্ত ছিলাম। কাকতালীয়ভাবে দুটো ছবির প্রেক্ষাপটই যে বাংলাদেশ, এটি আমার আনন্দের মাত্রা পূর্ণতর করেছে।'

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন