যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা নেটফ্লিক্সের গ্রাহকসংখ্যা বাংলাদেশে দুই লাখের ওপরে। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং একটি বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম পিআই স্ট্র্যাটেজির ধারণা এমনটাই। সে হিসাবে গ্রাহকপ্রতি ৯ ডলার করে প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে নেটফ্লিক্সের আয় ১৮ লাখ ডলার বা ১৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। দেশ থেকে প্রতি মাসে এই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এটি বন্ধেরও কোনো উপায় নেই।
বর্তমানে প্রায় ১৯০টি দেশে নেটফ্লিক্সের গ্রাহক ১৪ কোটি ৮০ লাখের মতো। চীন, উত্তর কোরিয়া, ক্রিমিয়া ও সিরিয়ায় এ সেবা নিষিদ্ধ হলেও সেই নিষেধ ভাঙার অনেক পথই উন্মুক্ত। বাংলাদেশেও এ সেবা নিষিদ্ধ করা সম্ভব না বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। বরং এই সেবার জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ কেনার ব্যয় এড়াতে এবং মানসম্মত সেবা পাওয়ার শর্ত সাপেক্ষে দেশে এর ক্যাশ সার্ভার স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরাসি।
বাংলাদেশে এ সেবা চলছে আইএসপি অপারেটরদের মাধ্যমে। এর জন্য আইএসপি অপারেটরদের ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ কিনতে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। এতে কোনো লাভ ছাড়াই তাদের ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য এ ছাড়া তাদের উপায়ও নেই। এ অবস্থায় দেশেই নেটফ্লিক্সের ক্যাশ সার্ভার স্থাপন করা হলে ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমার পাশাপাশি এর সেবার মানও অনেক ভালো হবে। এ ছাড়া দেশে ক্যাশ সার্ভার স্থাপনের অনুমতি না দিলেও এ সেবা বন্ধ করার সুযোগ নেই। এরই মধ্যে গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবকেও দেশে ক্যাশ সার্ভার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
SR/kalerkanto

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন