যেকোনো মানুষের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কাজটি হলো তার চাকরির নিরাপত্তা। ২০২১ সালের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটিতে ৩.৫ মিলিয়নের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে এতগুলো কর্মসংস্থান তৈরি হলেও তার সাথে পাল্লা দিয়ে কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ছে না। তাছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলে সেসব কোম্পানিতে সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট হিসেবে চাকরি পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
একজন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট মূলত যেসকল কাজ করে থাকেন,
- সিকিউরিটি আপডেট ও এর উন্নয়ন বিশ্লেষণ করেন
- সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের দেখাশোনা করেন
- বিভিন্ন সিস্টেমের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবর্তন ও অনৈতিক প্রবেশাধিকার নিয়ে গবেষণা করে থাকেন
- বিভিন্ন সিকিউরিটি টুলস ও অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখাশোনা করেন
- ফায়ারওয়াল ও অ্যান্টিভাইরাস ব্যবস্থাপনায় অ্যান্টিভাইরাস ডেভেলপার ও নেটওয়ার্ক অডিটরকে সাহায্য করেন
- ক্রিপ্টোগ্রাফার, ভালনারেবিলিটি এসেসর ও সিকিউরিটি অ্যানালিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন
- বিভিন্ন কোম্পানির সিস্টেমের জন্য উপযুক্ত সিকিউরিটি সফটওয়্যার তৈরি করেন
হ্যাকিং বলতে আসলে কী বুঝায়?
সারা বছরজুড়ে ঘটেছে হ্যাকিংয়ের এমন অসংখ্য ঘটনা। কিন্তু হ্যাকিং বলতে আসলে কী বুঝায়? এ সম্পর্কে অনেকের মনেই রয়েছে অস্পষ্ট ধারণা। হ্যাকিং হচ্ছে একটি সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের মধ্যে দুর্বলতা শনাক্তকরণ এবং ব্যবহার করার প্রক্রিয়া যা তথ্যভাণ্ডার বা সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে অননুমোদিত অ্যাক্সেস লাভ করতে পারে।
যে কোনো সিস্টেমকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তথ্য পাচার করতে পারে সবার অলক্ষ্যে ও গোপনে। হ্যাকার নানা ধরনের হতে পারে। প্রচলিত হ্যাকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম শোনা যায় ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার, হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার ও গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের। এছাড়াও রয়েছে স্ক্রিপ্ট কিডি, গ্রিন হ্যাট, ব্লু হ্যাট ও রেড হ্যাট হ্যাকার।
এথিক্যাল হ্যাকিং কী?
এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অন্য নাম পেনেট্রেশন টেস্টিং। একজন এথিক্যাল হ্যাকার কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে ও অননুমোদিত অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করে।
আর্থিক তথ্য, রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর তথ্যভাণ্ডার, নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে তাদের রক্ষা করাও এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের কাজ। এথিক্যাল হ্যাকিং এক্সপার্ট পেশাজীবনে ক্যারিয়ার হিসেবে যেসব পেশা বেছে নিতে পারেন তার মাঝে রয়েছে- সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, সিকিউরিটি আর্কিটেক্ট, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেটর, ক্রিপ্টোগ্রাফার ইত্যাদি।
সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট হওয়ার সুযোগ
হ্যাকারদের অপরাধ রুখতে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে এথিক্যাল ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের নিয়োগ। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যে বাংলদেশ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্সে অর্জন করেছে ৭৩তম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্সে অবস্থান করছে ৫৩তম অবস্থানে।
একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টের বেতন নির্ধারিত হয় তার পেশাভিত্তিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেশনের আলোকে। একজন এথিক্যাল হ্যাকার সাধারণত দক্ষতার ভিত্তিতে যেসব আন্তর্জাতিকমানের সার্টিফিকেট অর্জন করেন তার মধ্যে রয়েছে- CompTIA Security+, Certified Ethical Hacker (CEH), EC-Council Certified Security Analyst (ECSA), Certified Information Systems Security Professional (CISSP) ইত্যাদি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন