সালমান শাহকে নিয়ে যা বললেন কাছের মানুষজন - Slogaan BD

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

সালমান শাহকে নিয়ে যা বললেন কাছের মানুষজন

অমর নায়ক সালমান শাহর অস্বাভাবিক মৃত্যুর দুই যুগ পর পিবিআই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর ঘনিষ্ঠজন ও ভক্তরা এখনো তুলছেন নানা প্রশ্ন। যেসব প্রশ্নের কুল-কিনারা হয়নি, হয়নি কোনো বিচার অনুসন্ধান। তারা মনে করছেন সালমানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার মধ্যেই সিমাবদ্ধ ছিল তদন্ত রিপোর্ট। মনে করছেন,  এখনো সুযোগ রয়েছে অজানা তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের।

শাবনূর পিবিআইর রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছেন, রিপোর্টটিকে তার সম্মানহানির এক চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে গত ২৪ বছর ধরে চলা বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্বটাও আরো ঝাঁঝালো হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনের পক্ষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা।সালমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার ঘনিষ্ঠ তিন জন মানুষ—চিত্রনায়িকা শাবনূর, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও সালমানের মা নীলা চৌধুরীর মধ্যে ফের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে শাবনূর বলেন, ডাবিং থিয়েটারে নাকি আমার সঙ্গে সালমানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। দেখুন আপনারা সবাই জানেন ডাবিং থিয়েটারে আমরা যখন কাজ করি তখন অনেকেই থাকেন। সেখানে আমি কিভাবে ঘনিষ্ঠ হলাম। এসব মিথ্যে বানোয়াট গল্প সাজিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করা ছাড়া আর কিছু আমি দেখছি না।
এ প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং ছিল। আগেরদিন ডাবিং নিয়ে কথা হয় আমার আর সালমান শাহ’র। পরদিন ডাবিংয়ে আমি শ্বশুরের সঙ্গে গেলাম। সেখানে শাবনূরের সঙ্গে দেখা হলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখলাম সালমানের কানের কাছে মুখ নিয়ে বারবার কথা বলছিল শাবনূর। এটা আমার ভালো লাগেনি। রাগ করে চলে এলাম। তাই নিয়ে কথা কাটাকাটি হলো সালমানের সঙ্গে বাসায়। বাকি ঘটনা তো পিবিআই সব ভিডিওতেই দিয়েছে। তবে রাতেই সব শান্ত হলো। ভাবতেও পারিনি ইমন এমন একটা কাণ্ড করে বসবে।
একইভাবে কানের কাছে মুখ লাগিয়ে কথা বলার বিষয়টি শাবনূরকে জানানো হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘একটা স্টুডিওতে কত শব্দ হয় সেটা তো সবাই জানে। সেখানে কানের কাছে মুখ লাগিয়ে কথা না বললে তো চিৎকার করতে হবে। আমাকে ফাঁসাতেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
অন্যদিকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সালমান শাহ বিশ্বনন্দিত একজন মানুষ। তার সম্মানহানি করার জন্য এই প্রতিবেদন করা হয়েছে। নয়তো সালমানের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এসব বাজে কথা কেন উঠবে। সামিরা প্রেগনেন্টও হয়েছিল। কিন্তু সে চট্টগ্রামে গিয়ে সেই বাচ্চা নষ্ট করেছে। এসব মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে আমার ছেলেটাকে হেয় করার প্রতিবাদ জানাই।’
এই প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, দেখুন, আমি তখন কনসিভ করার চেষ্টা করছিলাম। কারণ সালমানের মা চাইতেন আমাদের বাচ্চা হোক। আমার কোনো সমস্যা ছিল না। এ নিয়ে সালমানের ওপর কোনো চাপ ছিল না। তবে আমি কনসিভ হয়েছিলাম, বাচ্চা নষ্ট করেছি এসব গুঞ্জন ছাড়া আর কিছু নয়। আমার শাশুড়ি মানে সালমানের মা এটা নিয়েও গুজব ছড়িয়েছেন।
শাবনূর এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থায় যাবেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি হতবাক, বিস্মিত এবং বিরক্ত। আমার কথা একটাই— এসব ধোঁয়াশা কথার প্রমাণ দিক।
এদিকে সালমান শাহর প্রথম নায়িকা ও দীর্ঘদিনের সহকর্মী মৌসুমী তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, পিবিআইর তদন্তকে সম্মান জানাই। তবে পাশাপাশি এটাও মানতে পারছি না, সালমান আত্মহত্যা করেছে। সালমানের মৃতদেহ যারা দেখেছেন, তারাও বিশ্বাস করেননি সালমান আত্মহত্যা করেছে। আপনি যদি কাউকে গুলি করে মারেন তাহলে তার দেহে গুলির দাগ থাকবে। কেউ গলায় দড়ি দিয়ে মরলে অবশ্যই গলায় দাগ থাকবে, চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যাওয়া কিংবা শিরাগুলোতে চিহ্ন থাকবে। সালমানের মৃতদেহে আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন দেখিনি।
সালমান শাহর দীর্ঘদিনের বন্ধু-সহকর্মী অভিনেতা ডন বলেন, ‘অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম। ২৪ বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ নিয়ে আমাকে ঘুরতে হয়েছে।’
সালমান শাহর প্রথম ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, যে চিরকুটটা তার পকেট থেকে পাওয়া গেছে সেটি এতদিন কেন পাওয়া যায়নি। আর শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি কখনো ওঠেনি। এটা যারা বলছেন সেটি বানোয়াট। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। আর সালমান যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, সেটি আমি কখনো শুনিনি।’ অন্যদিকে সালমান শাহর মা বর্তমানে লন্ডন রয়েছেন। তিনি জানালেন,‘ছেলের জন্য মানহানিকর এই প্রতিবেদন নিয়ে তিনি আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Post Top Ad

{SCOpenGraph image=http://site.com/link-to-homepage-image.jpg}