ফাগুন হাওয়ায় নতুন রূপে শিমুল বাগান - Slogaan BD

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

ফাগুন হাওয়ায় নতুন রূপে শিমুল বাগান

এ যেন দিনদিন মিলনমেলায় রূপ নিচ্ছে শিমুল বাগানে। এবার বসন্তে বাউলের মন রাঙিয়েছে। গত বছর বসন্তের আগেই মুকুল ঝরে পড়লেও এবার বসন্তেই ফুল ফুটেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডালে ডালে ফুটে থাকা হাজারো ফুল মনকে রাঙিয়ে তুলছে পর্যটকপ্রেমীদের। শিমুল বাগানের রক্তরাঙা ফুল চোখে পড়ছে এবার অনেক দূর থেকেই। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে এখন দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান।

প্রতিদিন হাজারো পর্যটকপ্রেমী জড়ো হচ্ছেন শিমুল বাগানে। কেউ আসছেন প্রেমিকা নিয়ে, আবার কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে।

গাছের মধ্যে লাল ফুলের গালিচা দেখতে অসংখ্য পর্যটক প্রতিনিয়ত আসছেন শিমুল বাগানে। এবার ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই গাছে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী মানিগাঁও গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক শিমুল বাগান। নদীর ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে মায়ার নদী যাদুকাটা আর এপারে রক্তিম ফুলের সমারোহ। ২০০২ সালে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদীন নিজের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে শৌখিনতার বসে প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করেন। দিনে দিনে বেড়ে ওঠা শিমুল গাছগুলো এখন হয়ে উঠেছে শিমুল বাগান। বসন্তে শিমুল গাছগুলোতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফাগুনের অরুণ আলোয় ফুটেছে বাগানের শিমুল ফুলগুলো। চোখের তৃষ্ণা মেটাতে টাঙ্গুয়ার হাওর, মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ও রূপের নদী যাদুকাটার মধ্যস্থলে বিশাল শিমুল বাগানে ফুটে ওঠা টুকটুকে লাল শিমুল ফুলগুলো দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক।


বাগানের মালিক প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাখাব উদ্দিন জানান, এবারই সঠিক সময়ে বসন্তে শিমুল গাছগুলোতে এক সঙ্গে ফুল ফুটেছে। এই শিমুল বাগান তার মরহুম পিতার পরিচয় দিন দিন আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে আসা পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি শিমুল বাগান কেন্টিন ও হোটেল করা হয়েছে।


কীভাবে যাবেন: শিমুল বাগান দেখতে চাইলে প্রথমে ঢাকা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে সুনামগঞ্জের প্রবেশদ্বার আবদুজ জহুর সেতুতে নামতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে মহাখালী থেকেও বাসে আসতে পারবেন সুনামগঞ্জে। এসব বাসে ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৫শ’ টাকা। আর যারা সিলেট থেকে আসবেন তারা সিলেট কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সহজে সুনামগঞ্জ নেমে পড়বেন। ভাড়া নেবে জনপ্রতি ১শ’ টাকা। আবদুজ জহুর সেতু থেকে সিএনজি, মোটরসাইকেল কিংবা যেকোনো গাড়ি দিয়ে তাহিরপুর লাউড়ের গড়বাজার অথবা বিন্নাকুলী বাজারে এসে নামবেন। যদি সেতু থেকে মোটরসাইকেলে আসেন জনপ্রতি ভাড়া নিবে দেড়শ’ টাকা আর সিনজি দিয়ে এলে ভাড়া নিবে ১শ’ টাকা করে। বিন্নাকুলী অথবা লাউড়েরগড় বাজার থেকে যাদুকাটা নদী পার হয়ে হেঁটে অথবা অটোরিকশা দিয়ে সুজা শিমুল বাগানে চলে আসতে পারবেন। অটোরিকশার ভাড়া নেবে জনপ্রতি ১০ টাকা করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Post Top Ad

{SCOpenGraph image=http://site.com/link-to-homepage-image.jpg}