এমন অনেকেই আছেন, যাদের অল্পবয়সেই চুলে পাক ধরতে শুরু করেছে। সাধারণত মাথার চামড়ায় (ত্বকে) পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে চুল পাকতে পারে। হজমের সমস্যা বা লিভারের সমস্যার ফলেও চুল অকালে পেকে যেতে পারে।
অল্প বয়সে চুল পাকার ফলে অনেকেই অস্বস্তিতে বোধ করেন। অনেকেই তাই পাকা চুল বেছে বেছে তুলতে থাকেন। কিন্তু এভাবে পাকা চুল তুলে ফেললে চুলের কতটা ক্ষতি হয় জানেন?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এভাবে বেছে বেছে পাকা চুল তুলতে থাকলে চুলের বৃদ্ধি এবং নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। এক্ষেত্রে মার্কিন হেয়ার রেস্টোরেশন সার্জন রবার্ট ডোরিনের ব্যাখ্যা, আমরা যখন মাথা থেকে বেছে বেছে পাকা চুল তুলি তখন চুলের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়। চুলের বৃদ্ধির গতি এবং নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।
ফলে নতুন চুল গজালে তা আগের তুলনায় রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন চুল না-ও গজাতে পারে। তাই অল্প বয়সে চুল পেকে গেলে সেই অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পাকা চুল না তোলাই মঙ্গল। কারণ পাকা চুলের অস্বস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার চেষ্টায় উল্টা মাথায় টাক পড়ে যাওয়াটা ভালো দেখায় না।
তাছাড়া, বাজার চলতি একাধিক দামি, ভালো হেয়ার ডাই ব্যবহার করে পাকা চুল কালো করে নিতে পারেন। রাসায়নিক যুক্ত হেয়ার ডাই ব্যবহার না করেও একাধিক প্রাকৃতিক উপায়ে অকালে পেকে যাওয়া চুলের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।
পাকা চুল রোধে
(১) আমলা বাটা
পাকা চুলের জন্য আমলা মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, তারাও আমলা থেকে ভালো উপকার পাবেন। আমলা বেটে তা চুলের গোড়ায় নিয়মিত মালিশে দ্রুত ফল পাবেন।
(২) নারিকেল তেল ও লেবুর রস
নারিকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে তা মাথার তালুতে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে মালিশ করুন। প্রমাণ রয়েছে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৬০-৭০ বছর বয়সেও কুঁচকুঁচে কালো চুল ধরে রেখেছেন অনেকে!
(৩) লেবুর জুস ও ক্যাস্টর অয়েল
লেবুর জুসের সাথে ক্যাস্টর অয়েল ভালো ভাবে মেশান যতক্ষণ না বুদবুদে ফেনা তৈরি হয়। এর সাথে মেহেদি যোগ করুন। মিশ্রণটি সারা মাথায় সমানভাবে প্রয়োগ করুন। এক ঘণ্টা পর শিকাকাই শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। এর ফলে চুল পাকা অনেকটা কমে যাবে।
(৪) রঙ চা ও লবণ
এক কাপ কড়া রঙ চা নিন। এর সাথে এক চা চামচ লবণ মেশান। ঠান্ডা হবার পর চায়ের তলানির অংশ সংগ্রহ করুন এবং তা চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করুন। এক ঘণ্টা পর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন। তবে চুল শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে!
চুলের সঠিক রঙ, ধরণ, মসৃণতা ও ঘণত্ব নির্ভর করে সঠিক পুষ্টি ও যত্নের উপর। আর তাই এমন কন্ডিশনার ও শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন যা আপনার চুলের সাথে সহজে মানিয়ে যায়। সোডিয়াম লরিল সালফ্যাট জাতীয় ক্ষারসম্পন্ন শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। এ ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান আপনার চুলকে রুক্ষ করে তুলবে।
আপনার চুলে আর্দ্রতা বাড়াবে – এমন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে ঘন ঘন কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার মাথার চামড়ায় গ্রিজের পরিমাণ বেড়ে যাবে যা মাথায় খুশকির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত মাথায় ম্যাসাজ করলে চামড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে যা আপনার চুলের সঠিক মাত্রায় বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন