পোকামাকড় কীটপতঙ্গ তাড়ানোর সহজ সমাধান - Slogaan BD

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

পোকামাকড় কীটপতঙ্গ তাড়ানোর সহজ সমাধান

রান্না করতে গিয়ে দেখলেন সিংকের ওপর হেঁটে বেড়াচ্ছে একটা তেলাপোকা। নিমেষেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। আবার ঘরের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। এসব পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী ঘরের পরিবেশ নষ্ট করে। এগুলো জীবাণুও ছড়ায়, যা কিনা পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু নানা রকম স্প্রে, পাউডার ও ওষুধ ব্যবহার করেও অনেক সময় তাড়ানো যায় না এসব পোকামাকড়। সেক্ষেত্রে কার্যকরী ও নিরাপদ কিছু ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন নিস্তারের জন্য—

তেলাপোকার উপদ্রব থেকে বাঁচতে

বাড়িতে একবার তেলাপোকা হলে সেগুলো সহজে তাড়ানোই যায় না। তবে তেলাপোকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সহজলভ্য একটি উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। রাতে বাড়ির সব লাইট বন্ধ করে দেয়ার পর তেলাপোকারা বেরিয়ে আসে। তাই ঘুমানোর আগে সব ঘরের কোনায় বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন। পরপর কিছুদিন এভাবে করুন। এতে খুব জলদিই সমস্যার সমাধান হবে।

ইঁদুরের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে

ইঁদুর ঘরের অনেক ক্ষতি করে। কাপড়, তোশক, বইপত্র ও খাবার নষ্ট করে এরা। এছাড়া ইঁদুর অনেক রোগের জীবাণু বহন করে। ইঁদুরের উৎপাত প্রতিরোধে ঘরের কোনায় কোনায় পুদিনা পাতা রেখে দিতে পারেন। কারণ ইঁদুর পুদিনা পাতার গন্ধ পছন্দ করে না।
ছারপোকা তাড়াতে

ময়লা, তেল চিটচিটে ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ছারপোকার জন্ম হয়। এগুলো কাঠের আসবাব, বিছানা ও দেয়ালে ঘোরাফেরা করে। ঘরে ছারপোকা হলে বেডশিটসহ সব কাপড়চোপড় গরম পানিতে ধুতে হবে। বিছানার তোশক বা ম্যাট্রেসের নিচে শুকনো নিমপাতা রাখুন। তাছাড়া বালিশ ও তোশক ছাদে নিয়ে নিয়মিত কড়া রোদে শুকাতে হবে।

মশা তাড়াতে

মশা দূর করার অনেক সহজ উপায় রয়েছে। হালকা গরম পানিতে কর্পূর মিশিয়ে ঘরের কোণে রেখে দিন। তাছাড়া স্নানঘর বা রান্নাঘরের কোথাও যাতে পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরোয়া গাছ থাকলে সেগুলো প্রায়ই রোদে দিন, মরে যাওয়া পাতা কেটে ফেলুন। টবে যেন পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাছাড়া ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখার অভ্যাস থাকলেও নিয়মিত পানি বদলে দিন। গোটা বাড়ির মেঝে, ডাস্টবিন ও অন্ধকার জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখুন। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।
পিঁপড়া না থাকুক

প্রতিদিন ঘর মোছার পানিতে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। সাবানপানি দিয়ে ঘর মুছলে পিঁপড়া থাকে না। তাছাড়া ঘরের বিভিন্ন স্থানে নিমপাতা ঝুলিয়ে রাখুন। নিমপাতা থাকলে পিঁপড়া ও অন্য ছোট ছোট পোকা আসতে পারে না। পিঁপড়া ও পোকামাকড় তাড়াতে লবঙ্গ ও শুকনা মরিচ ব্যবহার করা যায়। চিনির বয়াম, আলমারির কাপড়ের ফাঁকে, তোশকের কোনায় কোনায় কিছু লবঙ্গ ও শুকনা মরিচ রেখে দিন। এতে উপদ্রব কমে যাবে একেবারেই।

অন্যান্য কীটপতঙ্গ দূর করতে

গাছে নানা ধরনের কীট দেখা যায়। পাতায় সাদা ছত্রাকের মতো কিছু কীট থাকে, সেগুলো দূর করতে ভিনেগার মেশানো পানি স্প্রে করুন। তাছাড়া অন্যান্য পোকামাকড় যেন আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য সাবানপানি প্রয়োগ করুন।

মাছির উপদ্রব কমাতে

ঘরে মৌসুমি ফল আনলে বিনা নিমন্ত্রণেই হাজির হয় মাছিরা। তাছাড়া ময়লার ঝুড়ি পরিচ্ছন্ন না থাকলেও মাছির উৎপাত দেখা যায়। এজন্য প্রথমেই ঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। তাছাড়া কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন। মাছি ফল পছন্দ করলেও আপেল একেবারেই পছন্দ করে না। তাই এক টুকরো আপেলে কয়েকটি লবঙ্গ গেঁথে জানালায় রেখে দিন। এতে মাছি ঘরে ঢুকবে না। একইভাবে শসার টুকরোও রেখে দিতে পারেন। বাড়িতে মাছির আনাগোনা দেখা দিলে গোলমরিচ গুঁড়া করে পানিতে ভালোভাবে মেশান, এরপর গোটা বাড়িতে স্প্রে করুন। ভুলেও মাছি প্রবেশ করবে না ঘরে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Post Top Ad

{SCOpenGraph image=http://site.com/link-to-homepage-image.jpg}