নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেন মুসলিম তরুণী - Slogaan BD

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেন মুসলিম তরুণী

‘আমার ধর্ম বিশ্বাসের কারণে কি আমার চাকরি হবে না? আমাকে কি আমার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে? আমাকে কি কোনো এক দল মানুষ মেরে ফেলবে?’-এভাবেই ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিবিসির কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন রিকাত হাশমি। তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুসলিম ছাত্রী।

রিকাত হাশমি বলেন, ‘ভারতের অন্য মুসলিমদের মতো, ভবিষ্যতে কি হবে-তা ভেবেই আমার দিনগুলো কেটে যায়।’


ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানো মুসলিম ছাড়া অন্য ছয়টি ধর্মের মানুষদের নাগরিকত্বের অধিকার দেয়।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু বিক্ষোভ বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছিল পুলিশ। লাইব্রেরি আর বাথরুমে টিয়ার গ্যাস দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের উপায়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মুসলিমদের আলাদাভাবে লক্ষ্য করে বাদ দেওয়া হয়েছে-এই আইনি বৈষম্যগুলোই ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল বিষয়।

রিকাত হাশমির প্রশ্ন, তাহলে পুলিশ কেন এ ধরনের সহিংস পদক্ষেপ নিলো? কারণ হিসেবে পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীরা যানবাহনে আগুন দেওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ কোথায়?

পুলিশ বলে, তারা গুলি চালায়নি, তাহলে হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা আহত হলেন কীভাবে?

দন্ত চিকিৎসায় ডিগ্রি নেওয়া ওই মুসলিম ছাত্রী বলেন, এখানে আমি অনেক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হতে দেখেছি। আমি এই বিক্ষোভে অংশ নেইনি যা পরে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। কিন্তু এর পরিণতির শিকার হয়েছিলাম আমি।‘

তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, পুলিশ যখন আমাদের হোস্টেলের দিকে অগ্রসর হতে থাকি, তখন আমি ভয়ে চিৎকার করছিলাম। আমরা আমাদের বাতি বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। রাত কেটে যাওয়ার পর সৌভাগ্যক্রমে আমরা সুরক্ষিত ছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে যা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল তা হলো-

আমরা সমালোচনা করেছি কিনা সেটি কোনো বিষয় নয়, তবে যেহেতু আমরা লক্ষ্যবস্তু তাই ধরেই নেওয়া হতো যে আমরা করেছি। আমরা নতুন ভারতের মুসলিম।’

‘আমার মনে আছে, ছোট বেলায় হিন্দুদের আধ্যাত্মিক গান গাওয়া শুনে ভোর বেলা ঘুম ভাঙতো আমাদের। পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা বা সাবেক উড়িষ্যা রাজ্যে প্রধানত হিন্দুপাড়ায় আমরা একমাত্র মুসলিম পরিবার ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো উৎসব আমরা সব সময় একসাথে উদযাপন করতাম। ঈদের সময় তারা আমার হাতে মেহেদী লাগিয়ে দিতো, আর নবরাত্রির অনুষ্ঠান উদযাপন করতে তাদের বাড়িতে চলে যেতাম আমরা। যা খারাপের বিরুদ্ধে ভালোর জয়ের অনুষ্ঠান।

‘ধর্ম আমাদের জীবনযাপনের একটা অংশ ছিল, কিন্তু মুসলমান হিসেবে আমি কখনো আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে সচেতন ছিলাম না। তবে তা অবশ্যই বর্তমান সময় আসার আগে পর্যন্ত।’

রিকাত হাশমি বলেন, ‘প্রতিনিয়তই আমাদেরকে মাংস-খেকো, ধর্ষণকামী সমাজ, পাকিস্তানকে সমর্থন করা সন্ত্রাসী, ধর্মান্তরিত হিন্দু এবং সংখ্যালঘু যারা দেশকে দখল করে নেবে বলে ছোট করা হচ্ছে।

‘কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আমরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হতে যাচ্ছি, যাদের ভয়ের মধ্যে কীভাবে বাঁচতে হয় তা শিখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ ২২ বছর বয়সে আমি আমার ধর্ম এবং দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে নির্লজ্জভাবে যে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করছি। আমি বৈষম্যমূলক নীতি এবং পড়তি অর্থনীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে চাই।

‘কিন্তু প্রতিবারই আমাকে জাতীয়তাবাদ বিরোধী এবং হিন্দু বিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং আড়ালে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’

আমরা এমন একটি বিপজ্জনক নতুন যুগে বাস করছি যেখানে ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত’, বলেন ওই মুসলিম ছাত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমি দেখি যে, রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় হিজাব পরার কারণে লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে থাকছে। এটা হয়তো অযৌক্তিক ভয়ের কারণে। কিন্তু ইসলাম ভীতির পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।’

এমন চরম দুর্ভাগা পরিস্থিতিতে ভিন্নমতগুলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে রিকাত হাশমি বলেন, ‘এটা সেই ভারত নয়, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি এবং এর চেয়ে অনেক ভালো পরিস্থিতি পাওয়ার অধিকার রয়েছে আমাদের।

‘যেহেতু আমার দুনিয়ায় ভাঙন ধরেছে, তাই নীরবে অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর উপায় নাই।’

হোস্টেল থেকে নিয়ে এসে জোর করে ছুটি কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তিনি।

রিকাত হাশমি বলেন, ‘আমি অন্য শহরে থাকা আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে যেতে পারি না। কারণ সেখানে পুরোদমে বিক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। তাই আপাতত স্থানীয় এক অভিভাবকের জিম্মায় রয়েছি।’










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Post Top Ad

{SCOpenGraph image=http://site.com/link-to-homepage-image.jpg}